বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বরাবরই মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বরাবরই মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলে এসেছে৷ কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রশাসনকে মব সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি৷ এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক দিনে আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় মব সন্ত্রাসের কদর্য রূপ দেখতে পেলাম৷ এবার দৈনিক সংবাদপত্র প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটল৷ এই ন্যক্কারজনক ঘটনার আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই৷
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, যেখানে ন্যায়বিচার থাকবে, দল-মতনির্বিশেষে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকবে৷ কিন্তু গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে সাম্প্রতিক হামলা সেই আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী৷ আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতার কারণে সাম্প্রতিক এসব ঘটনা ঘটার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে৷
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যখন দেশে নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়েছে এবং আগামী ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের আপামর মানুষের আশার বাতিঘর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হতে যাচ্ছে, ঠিক তখন দেশে অস্থিরতা তৈরির মাধ্যমে কারা দেশের ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তায় ফেলতে চাচ্ছে, তা জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়েছে৷
আমরা দুটি গণমাধ্যমের বিরুদ্ধের রাজশাহীর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সভাপতি ও রাকসুর ছাত্রশিবির সমর্থিত ভিপির বক্তব্য দেখেছি৷ দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠন তছনছ করে দিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সেক্রেটারির আহ্বানসংবলিত বক্তব্যও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে৷ আবার শিবির সমর্থিত ডাকসু নেতাদেরকে আমরা প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের ওপর হামলার নিন্দা জানাতে দেখলাম৷ অন্যদিকে জামায়াতের আমিরকেও গণমাধ্যমে হামলার নিন্দা জানাতে দেখা গেছে৷ জামায়াত-শিবির স্পষ্টতই ‘সর্প হইয়া দংশন করো, ওঝা হইয়া ঝাড়ো’- এমন দ্বৈত নীতি অনুসরণ করছে৷ এই নীতি থেকে তাঁদেরকে বের হয়ে আসার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি৷
আমরা দেখেছি, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়েছে৷ অথচ শহীদ হাদিকে আমরা প্রতিষ্ঠান ভাঙা নয়, গড়ার পক্ষে সরব থাকতে দেখেছি৷ ফলে যারা তাঁর নাম ব্যবহার করে এ ধরনের হামলা করছে, তারা শহীদ হাদির অমর্যাদা করছে, তারা শহীদ হাদির আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের বিরুদ্ধে কাজ করছেন৷
দেশ এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সকল সহযোদ্ধাদের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান থাকবে, যেকোনো হঠকারী কর্মকাণ্ড থেকে সবাই বিরত থাকুন৷ দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণে সবাই সহযোগিতা করুন৷ গণতন্ত্রে উত্তরণ না ঘটলে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে- এমন আশঙ্কা সব মহল থেকেই করা হচ্ছে৷ সে রকম অবস্থা তৈরি হলে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা বিপদগ্রস্ত হবেন আর লাভবান হবে ফ্যাসিবাদী অপশক্তি৷ তাই সবার প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান থাকবে, কারো পাতা ফাঁদে পা দেবেন না৷ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার পক্ষে থাকুন৷
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ৷



